যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি ৩৭০০ কোটি টাকার ড্রোন ধ্বংস
হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 reaper) ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের ফারস ও মেহর বার্তা সংস্থা আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি দূরপাল্লার এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে। পরে ড্রোনটি পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট- এর সাম্প্রতিক বিবরণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও অভিযানগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র তার বহরের অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পূর্বে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে আনুমানিক ১৮৫টি রিপার ড্রোন ছিল (বিমানবাহিনী ১৬৫টি ও মেরিন কর্পস ২০টি)। ফলে ৪৫টি ড্রোন হারানো মানে তাদের মোট বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষতি হওয়া।
প্রতিটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার)। সেই হিসাবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলারেরও বেশি।
এক মাসের মধ্যে রোববার (৩০ আগস্ট) প্রথমবারের মতো দক্ষিণ ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলোতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘পানিশমেন্ট অব দি অ্যাগ্রেসর’। এ অভিযানে জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল আজরাক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালির দিকে মাইনবাহী রকেট ছোড়ার জন্য প্রস্তুত রাখা লারাক দ্বীপের কিছু লঞ্চার লক্ষ্য করে মার্কিন হামলাটি চালানো হয়েছিল।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইনবাহী রকেট ছোড়ার জন্য আইআরজিসিকে প্রস্তুতি নিতে দেখার পর লারাক দ্বীপে দুটি ইরানি লঞ্চারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এসএএইচ
