September 1, 2026

মুক্তির পর যেসব কারণে সমালোচনার মুখে ‘টক্সিক’

0
toxsic-mtfwazivth8my2z-20260830201952.jpg


চার বছর ধরে অপেক্ষা। এর মধ্যে একাধিকবার বদলেছে মুক্তির পরিকল্পনা। যশকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিপুল প্রত্যাশা। অবশেষে ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে গীতু মোহনদাস পরিচালিত দক্ষিণী সিনেমা ‘টক্সিক’।

ছবিতে যশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদবাণী, হুমা কুরয়েশি, তারা সুতারিয়া, রুক্মিণী বসন্ত ও নয়নতারা। মুক্তির আগে সিনেমাটির প্রচারে অভিনেত্রীদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল, ‘টক্সিক’ শুধু যশের তারকা-ইমেজনির্ভর সিনেমা হবে না; নারী চরিত্রগুলোরও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

তবে মুক্তির পর সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সিনেমাটির উপস্থাপনার ফারাক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বক্স অফিসে সিনেমাটি ব্যবসা করলেও দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া একমুখী নয়। গল্প, চরিত্র নির্মাণ, অ্যাকশন ও যশের অভিনয় নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে এসেছে।

‘টক্সিক’-কে অ্যাকশন সিনেমা হিসেবে দেখলে এর বড় আয়োজন, লড়াইয়ের দৃশ্য এবং যশের তারকাসুলভ উপস্থিতি সহজেই নজর কাড়ে। কিন্তু সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, এই ‘ম্যাস’ আবহ তৈরি করতে গিয়ে সিনেমাটি কি অতিরিক্ত পুরুষকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে?

অপরাধ, ক্ষমতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আবেগের নানা স্তর থাকলেও শেষ পর্যন্ত গল্পের কেন্দ্রে যশের চরিত্রই সবচেয়ে শক্তিশালী। ফলে অন্য চরিত্রগুলোর নিজস্ব অবস্থান অনেক সময় সংকুচিত হয়ে গেছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

‘টক্সিক’র অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পাঁচ অভিনেত্রী-কিয়ারা, হুমা, তারা, রুক্মিণী ও নয়নতারা। প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা পরিচিতি। তাই সিনেমায় তাদের চরিত্র নিয়েও প্রত্যাশা ছিল বেশি।

কিন্তু মুক্তির পর অভিযোগ উঠেছে, পর্দায় উপস্থিতি থাকলেও চরিত্রগুলোর গভীরতা যথেষ্ট নয়। তাদের ব্যক্তিগত যাত্রা, সংকট কিংবা আবেগকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং যশের চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতেই অনেক ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব নির্ধারিত হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকদের একাংশ।

‘টক্সিক’র প্রাণ যে যশ, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সিনেমার শুরু থেকেই তার উপস্থিতিকে বড় করে দেখানো হয়েছে। হাঁটার ধরন, সংলাপ বলার ভঙ্গি ও শরীরী ভাষায় রয়েছে তার পরিচিত ‘ম্যাস’ ইমেজের ছাপ।

তবে এখানেই উঠেছে প্রশ্ন-চরিত্রকে তুলে ধরার চেয়ে কোথাও কি যশের তারকা-ইমেজই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে? চরিত্রের প্রয়োজনের তুলনায় অভিনেতার জনপ্রিয়তাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

‘টক্সিক’র অন্যতম বড় আকর্ষণ অ্যাকশন। একই সঙ্গে এটিই সিনেমাটির দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকদের একাংশ।

গোলাগুলি, সংঘর্ষ, হত্যা ও পাল্টা আক্রমণে ভরপুর সিনেমাটির অ্যাকশন দৃশ্য বড় পর্দায় চমক তৈরি করলেও এসবের ভিড়ে গল্পের আবেগ কতটা জায়গা পেয়েছে, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

অ্যাকশনের পাশাপাশি চরিত্রগুলোর মানসিক টানাপোড়েন ও আবেগকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরা যেত কি না, তা নিয়েই মূল আলোচনা।

মুক্তির আগে ‘টক্সিক’র নারী চরিত্র এবং সিনেমাটির নারীবাদী অবস্থান নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সিনেমাটি দেখার পর সেই দাবির সঙ্গে পর্দার উপস্থাপনার মিল কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

সমালোচনার মূল জায়গা হলো-নারীদের শক্তিশালী ও স্বাধীন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা থাকলেও তাদের গল্পের কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত যশের চরিত্রই। তাদের আবেগ, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষ চরিত্রটিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে বলে মনে করছেন দর্শকদের একাংশ।

সব মিলিয়ে মুক্তির পর ‘টক্সিক’ বক্স অফিসে কেমন ব্যবসা করবে, তার পাশাপাশি সিনেমাটির গল্প ও চরিত্র নির্মাণ নিয়েও আলোচনা চলছে। যশের তারকা-ইমেজ, বিপুল অ্যাকশন এবং নারী চরিত্রগুলোর উপস্থাপন-এই বিষয়গুলোই আপাতত সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

এমএমএফ/এএসএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *