ফেসবুকে মৃত্যুর তারিখ লিখে ‘ছাদ থেকে লাফ’, সংকটাপন্ন অমিত
অমিত ঘোষের বয়স সবেমাত্র ১৬ বছর। রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ২০২৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা তার। অথচ কলেজের ভবন থেকে পড়ে এখন সে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তাকে রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬নং ভবন থেকে পড়ে যায় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, অমিত ঘোষের ভবন থেকে পড়ে যাওয়া নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত, তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। শিক্ষকরা বলছেন, সে আত্মহত্যার উদ্দেশে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছে। তবে অভিভাবকরা তা মানতে নারাজ। তারা বলছেন, ভবনটি নির্মাণাধীন। কোনো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
অমিতের ফেসবুকে মৃত্যুর তারিখ!
অমিত ঘোষের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির তথ্য অবশ্য ভিন্ন কথা বলছে। তার প্রোফাইলের বায়োতে অমিত ঘোষ নিজের জন্ম তারিখ এবং মৃত্যুর তারিখ লিখে রেখেছেন। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘01/11/2007-13/09/2026’। ‘Stand proud. You’re limited edition. Only one ever created.’
ভবন থেকে পড়ার পর তার প্রোফাইলে আগে থেকেই মৃত্যুর তারিখ লেখা দেখে চমকে উঠেছেন শিক্ষক-অভিভাবকরা। তারা এটি দেখে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন।
তবে অভিভাবকদের আরেকটি পক্ষ বলছে, যে ভবন থেকে অমিত পড়ে গেছে, সেই ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ১১তলাটা পুরো খোলা। সেখানে এখনো কাজ চলমান। শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়া নিষেধ। তারপরও কেন অমিত সেখানে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে ঘটনার বর্ণনা
সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্তত তিনজন শিক্ষক ও দুজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। তারা জানান, রোববার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় সে। উপুড় হয়ে পড়ায় তার নাক-মুখ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক শাকিলা আক্তার দীপা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের একটি ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের একটা ছেলে নিজে নিজেই লাফ দিয়েছে। সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে ওর ব্যাগে। সঙ্গে সঙ্গে ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন ওর কী অবস্থা তা বলতে পারছি না।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সামনেই ঘটনাটা ঘটেছে। এখনো আমার হাত-পা কাঁপছে। স্থির হতে পারছি না। একদম মুখ-চোখ থেঁতলে গেছে। ছেলেটা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক সেই দোয়া করি।’
শিক্ষকদের দাবি গেমে ‘আসক্ত’
এদিকে, ঘটনা নিয়ে নানান আলোচনার মধ্যে স্কুলের শিক্ষকরা অমিতকে গেমে আসক্ত উল্লেখ করে বিভিন্ন গ্রুপে মেসেজ করছেন। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মালিবাগ ক্যাম্পাসের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মাধ্যমের দিবা শাখার অভিভাবকদের গ্রুপে গণিতের শিক্ষক গোপাল দেবনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী anime নামক মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে আজ ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। সে সুইসাইড নোট রেখে গেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষক গোপাল দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়েছে, এটুকুই আমি শুনেছি। কিন্তু সে লাফ দিয়েছে, নাকি পড়ে গেছে তা জানি না। আর তার ব্যাগে নাকি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সবই শুনেছি। আমি কিছু দেখিনি। গেমে আসক্তির বিষয়টিও শোনা।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, আহত শিক্ষার্থী অমিত ঘোষকে সকালে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢামেক থেকে তার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম, উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অমিত ঘোষের পরিবারের একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এএএইচ/ইএ


