September 7, 2026

নিট ফেব্রিক আমদানি বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত

0
jagonewsimage-mtpgex7fji07ta6-20260906125514.jpg


সরকারের প্রস্তাবিত আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)।

সংগঠনটি বলছে, প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ বর্তমান অবস্থায় বহাল থাকলে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা, দ্রুত অর্ডার বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

একই সঙ্গে চূড়ান্ত নীতি প্রণয়নের আগে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিজিবিএ’সহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বের) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবিএ সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ এ দাবি জানান।

সংগঠনটির মতে, দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পের বিকাশ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। তবে তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, ক্রেতার নির্দিষ্ট চাহিদা, পণ্যের বৈচিত্র্য, গুণগত মান, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহের বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে।

বিজিবিএ বলছে, সব ধরনের নিট ফেব্রিক সবসময় দেশীয়ভাবে প্রয়োজনীয় মান, বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতার নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী বিশেষায়িত ফেব্রিক আমদানি ছাড়া রপ্তানি অর্ডার বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।

এ ধরনের ফেব্রিক আমদানিতে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি লিড টাইম দীর্ঘ হতে পারে। এতে অর্ডার বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বিকল্প সোর্সিং গন্তব্য বেছে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে বিজিবিএ।

সংগঠনটি আরও বলেছে, প্রস্তাবিত নীতিতে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সুপারিশসহ বিভিন্ন অনুমোদন ও প্রক্রিয়াগত শর্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষায়িত ফেব্রিকের অনুমোদন বা সুপারিশ পেতে দেরি হলে তা সরাসরি উৎপাদন ও শিপমেন্ট সূচিতে প্রভাব ফেলবে।

এ অবস্থায় প্রস্তাবিত নিট ফেব্রিক আমদানি বিধিনিষেধ বর্তমান রূপে বাতিলের পাশাপাশি নীতি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত ও অর্থবহ আলোচনা করার দাবি জানিয়েছে বিজিবিএ।

একই সঙ্গে কোন কোন নিট ফেব্রিক দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ও প্রতিযোগিতামূলক দামে উৎপাদিত হচ্ছে এবং কোনগুলো আমদানি করা অপরিহার্য—তা তথ্যভিত্তিকভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিশেষায়িত, কারিগরি, উচ্চমূল্যের ও ক্রেতা-নির্দিষ্ট ফেব্রিক, যা দেশে প্রয়োজনীয় মান বা স্পেসিফিকেশনে সহজলভ্য নয়, সেগুলোর আমদানি নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।

বিজিবিএ মনে করে, দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখা—এ দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়। বরং শিল্পের বাস্তব সক্ষমতা ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও রপ্তানিবান্ধব নীতি প্রণয়ন করা হলে উভয় লক্ষ্যই অর্জন সম্ভব।

বিবৃতিতে বিজিবিএর সভাপতি বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের মূল্য প্রতিযোগিতা, লিড টাইম, ক্রেতার চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান বিবেচনায় নিয়েই আমদানি নীতি চূড়ান্ত করা প্রয়োজন।

ইএইচটি/এমকেআর



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *