দীপংকর কুমার চৌধুরীর তিনটি কবিতা
তুমি এবং প্রেম
তুমি কাঁটা শশীর কান সেলাই করছ—রাত্রির মাচনে বসে—সুদূর মেঘপুঞ্জ থেকে হাতে নামিয়ে।
রাঁধুনি বেশভূষে সৃষ্টি করছো প্রেম ভোজনপাত্রে—রূপবতী স্রষ্টা সৃষ্টি সম্ভার—বেড়ে দাও—পাতে,
প্রেম ভজনালয় থেকে।
তোমার উঠোনে ফুটন্ত ক্ষুদ্র জ্যোতিষ্ক,
তারাও তাকিয়ে আছে হেঁশেলে।
অভুক্ত সন্তানের জঠরদেশে—বেদনার মতন।
তুমি এবং প্রেম—এক হেঁশেলে নাগরিক—যাকে খুঁজি শতাব্দী ধরে—ঋতুচক্রের আবর্তনে—ভবের দুয়ারে।
হ্যালুসিনেশন
তোমার প্রেমকুণ্ড দাহে ঝাপ দেয়, মরুভূমির বালিতে খুঁজি দেবি কারুকার্য পা।। তোমার সম্মোহনী রূপে আফ্রিকার জঙ্গলে নির্জনে ঢুকে যায়, সিংহ বিষধর সাপ, অজস্র কীটপতঙ্গের রাজত্ব। তোমার ঠোঁট ভেবে সিংহের চোয়ালে এগিয়ে দেয় আমার চিবুক।হ্যালুসিনেশনের তাড়নায় সমুদ্রের নীল জল ভেবে বালি ঢালি গলায়।। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করি সর্বাঙ্গে। নবজাতকের অভিষেক পিতার ওষ্ঠস্পর্শের মতো। রূপবতী প্রেমিকা, তোমায় খুঁজতে জঙ্গলে রাত্রিযাপন। বৃদ্ধ কুমিরের ডেথ বডি অংশবিশেষ খুদার জ্বরে বিভ্রম হয়ে বারবিকিউ করে খায়। যাযাবর জাতির পাথর ঘষে আগুন জ্বালানো আয়ত্ত করে নেয়। নিজেকে আত্মরক্ষায় আগুনের জ্যত্যর্থে।। পলায়ন করি অরণ্যের হিংস্র রাজ্য থেকে।। তোমার বিয়োগে, হ্যালুসিনেশন আমাকে সাপ এবং কুমিরের দুর্বোধ্য জগতে টেনে নিয়ে যায়।
পুরস্কার
তুমি বলেছিলে সমুদ্রে যাবে—ডলফিনের কলিজা খাবে, হাঙর স্নেহ করবে।
আমি দরিয়ায় ডুব দিলাম,
একটি হাত কেটে দিয়ে—তুলে অনলাম কলিজা।
তুমি বললে সিংহের মাংস খাবে—জঙ্গলে গেলাম
আমার অবশিষ্ট অংশ কেটে দিয়ে সিংহের মাংস অনলাম—আমার সর্বস্ব কেটে ফেলছি।
এখন শুধু বাকি আছে তোমার দেওয়া পুরস্কার বিষাদ, তিক্ততা, পাহাড় ভাঙা শব্দ—দীর্ঘশ্বাসের গঞ্জন, অপমানিত দৃষ্টি।
এই অসীম সংখ্যক পুরস্কার কোথায় বিতরণ করি—
চিরন্তন সত্য মৃত্যু নিবে কি এই সম্ভার?
এসইউ

