August 31, 2026

চবিতে নারী শিক্ষার্থীকে সাইবার বুলিং-যৌন হয়রানির অভিযোগ

0
og_1788192085_6a95a555994f0.jpeg


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, সাইবার বুলিং ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ, লাবণ্য তিশা, তানভীর হোসেন, জোবাইদা বিনতে হোসেন ও সোলায়মান আবির। তাদের মধ্যে মারুফ ছাত্রদলের সহ-ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তিনি কোনো পদে নেই।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ‘সিইউ ইনসাইডার’ ফেসবুক পেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়র শিষ্টাচার নিয়ে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ২৩, ২৪ ও ২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে শেয়ার করা হয়। পরে সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর পারিবারিক শিক্ষা ও আচার-আচরণ নিয়ে অশালীন মন্তব্য শুরু হয়। বিষয়টি শান্ত করতে গ্রুপে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না করার অনুরোধ জানান ভুক্তভোগী। অভিযোগ, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা নিজেদের ব্যাচের গ্রুপে ওই নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে যৌন হয়রানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।

পরে বিভাগীয় সভাপতির পরামর্শে প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী। প্রক্টর অফিস থেকে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর জন্য ডাকা হলেও এরপর নতুন একটি ট্রোল গ্রুপ খুলে তাকে ফের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ। ওই গ্রুপে ভুক্তভোগীর এক বন্ধুর ফেসবুক আইডি থেকে অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি কভার ফটো হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পরে গ্রুপের এক সদস্য স্ক্রিনশট পাঠালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, সিআর হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়া অভিযুক্তদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাইবার বুলিং ও যৌন হয়রানি করা হয়েছে। প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পরও হয়রানি বন্ধ হয়নি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ বলেন, ঘটনাটি মূলত র‍্যাগিংকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে। সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় তাদের র‍্যাগিং করতেন। তবে কোনো যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন মারুফ। গ্রুপে তর্কের সময় তিনি উপস্থিত থাকলেও ছবি বিকৃতি বা নতুন গ্রুপ তৈরির সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে জানান।

চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বী তৌহিদ বলেন, অভিযোগটি প্রক্টর অফিসের মাধ্যমে বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বিভাগে সুরাহা না হলে পরবর্তী ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা এবং চাকসুর ‘ফ্রি লিগ্যাল এইড সেল’-এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে বিনামূল্যে নারী আইনজীবীর সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএমআরআর/এসজেডএইচ/এএসএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *