September 6, 2026

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে, একদিনে আক্রান্ত ৩৩৪

0
og_1788708912_6a9d88300b31e.jpeg


খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৩৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৮৩ জনে। এ সময়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও ডেঙ্গুতে বিভাগে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ২৮৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩০৬ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় ৮৮৫ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ১৮৩ জন। এরমধ্যে ৬ হাজার ১১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিভাগে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২১ জন।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন খুলনা জেলায়। জেলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ৬৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিভাগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত জেলা বাগেরহাট। সেখানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরপর যশোরে ৬৬০ এবং নড়াইলে ২৬০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

খুলনা জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ সম্পর্কে সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরুর আগে থেকেই গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার জেলার সব হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ওয়ার্ডভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

খুলনা বিভাগের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্ষার শুরুতে খুলনায় ডেঙ্গুর লার্ভা ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া নগরের অনেক ড্রেন উঁচু হওয়ায় পানি ঠিকমতো সরতে না পারায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এতে ডেঙ্গুর লার্ভা বিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর মশা ও লার্ভা নিধনে স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যাপকভাবে কাজ করছে। বর্ষার পরিমাণ কমে এলে ডেঙ্গুর প্রকোপও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, খুলনা বিভাগের সব জেলা ও উপজেলায় ডেঙ্গু বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

আরিফুর রহমান/কেএইচকে/এএসএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *