এবার অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচার মামলায় সাহেদ করিম গ্রেফতার
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।
৭১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাহেদকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন আদালতে সাহেদের পক্ষে আইনজীবী দবির উদ্দিন জামিন আবেদন করেন। তবে ওই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৭ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে সাহেদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াতুল ইসলাম মোহাম্মদ সাহেদ ও তার স্ত্রী সাদিয়া আরবীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে সাদিয়া আরবী স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেন। তদন্তে তার নামে ৭৬ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদের তথ্য তিনি গোপন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া পারিবারিক ব্যয় হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা যুক্ত করলে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা। বিপরীতে আয়কর নথিতে তার ঘোষিত আয় ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তদন্তে এসব সম্পদের বড় অংশকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
দুদকের তদন্তে আরও বলা হয়, সাদিয়া আরবীর নিজস্ব নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস ছিল না। সাহেদ অবৈধ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে স্থানান্তর, রূপান্তর ও গোপনের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগে সাহেদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অস্ত্র ও চেক ডিজঅনারসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি সাজাও পেয়েছেন।
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেলেও সম্প্রতি সিআর পরোয়ানায় তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। পরে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা সংক্রান্ত পরোয়ানায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিভিন্ন মামলায় সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল থাকায় বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এমডিএএ/এমকেআর

