JezK

Directory: /home/banglad4/public_html

/home/banglad4/public_html/

Directory Contents:


Create New Folder:

New Folder Name:

Upload New File:

Select file to upload:

Command:

আবারও ২০২৪-এর মতো পরিস্থিতি চাই না: টিআইবি - Bangla Daily
September 15, 2026

আবারও ২০২৪-এর মতো পরিস্থিতি চাই না: টিআইবি

0
og_1789470289_6aa9265116e62.jpeg


রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার ফল দীর্ঘমেয়াদি হলে তা শুধু বুমেরাং নয়, আত্মঘাতীও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আগামীদিনে আবারও ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা চান না জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহি সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আস্তে আস্তে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা বিষয়গুলো দেখেছি। কিন্তু ২০২৪ আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, মানুষের অধিকার ও ক্ষমতার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ট্রানজিশনের পর যাদের ওপর দায়িত্ব আসে বা যারা বিজয়ী হয়ে যান, তারা আন্দোলনের প্রত্যাশা প্রতিবারই পূরণ করেন না। আমরা সেটিই দেখতে পাচ্ছি।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সব জায়গায় পরিবর্তন দরকার। আমরা সংস্কারের প্রয়োজনের কথা বলছি। জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষাটা আমরা নিয়েছি কি না, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে সেটি ভেবে দেখতে হবে।’

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা সত্যিকার অর্থে জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষা নিয়েছেন কি না, সেটিও একটি প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, দীর্ঘকাল গণতন্ত্রের ঘাটতি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে সারা দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পুরো দেশবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা আজ ক্ষমতায় আছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন এবং সংসদের ভেতরে আছেন, তারাও বিভিন্নভাবে এসব পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সংস্কার বা পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা থাকার কথা, সেটি আশানুরূপ দেখা যাচ্ছে না।’

‘সেটা যদি বাস্তবে পেতে হয়, আমি আবার বলব, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের সংস্কার করতে হবে। নিজেদের দিকে তাকাতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ৫ আগস্টের পর দল বা ব্যক্তি পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা, চাঁদা সংগ্রহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয়, দায়িত্বপূর্ণ ও কর্তৃত্বের অবস্থানে যারা রয়েছেন, তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে সরে আসতে হবে। রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের কর্তৃত্ব নিজেদের সুবিধায় ব্যবহারের প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল অনেকটা প্রতিষ্ঠানের মতো। এর পরিবর্তন বাইরে থেকে কেউ করে দিতে পারবে না। রাজনৈতিক দলকে নিজেদের পরিবর্তনের জন্য নিজেরাই উদ্যোগ নিতে হবে।

পরিবর্তনের পথে রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্রকে অন্যতম প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই প্রতিরোধক শক্তির এক নম্বরে আসছে রাজনৈতিক দল। তবে আমি সবাইকে একই ক্যাটাগরিতে ফেলছি না। অনেকে সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চান এবং পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু সার্বিকভাবে রাজনৈতিক অবস্থান থেকে যেভাবে পরিবর্তনের পথে প্রতিরোধ বা অন্তরায় তৈরি করা হচ্ছে, সেটি একটি বড় শক্তি। এই শক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে।’

দ্বিতীয় প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে আমলাতন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে যে ক্ষমতা, রাষ্ট্র বাস্তবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু এর পরিবর্তে আমলাতন্ত্র রাজনৈতিক গণতন্ত্রকে পরিচালনা করে।’

আইন সংস্কার ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক শক্তির নির্দেশনা অনেক সময় কাজে লাগে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে আমলাতন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মূলত আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রায় অন্যতম প্রতিরোধক যে শক্তিগুলো, তারা যদি নিজেরা পরিবর্তন করে, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।’

আগামী দিনে আবার ২০২৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন প্রতি বছর, প্রতি মাসে করতে হবে, এমনটা দরকার নেই। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার যে ফল, তা যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলে রাষ্ট্রের জন্য সেটি শুধু বুমেরাং হবে না, আত্মঘাতীও হবে। আবার বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে, সেটি আমরা চাই না।’

তিনি বলেন, ‘আশা করি, যারা দায়িত্বে আছেন, ২৪-এর শিক্ষাটা তারা গ্রহণ করবেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিশ্রুত হবেন।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা হচ্ছে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা। পাশাপাশি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও স্বতঃস্ফূর্ত সংসদ পরিচালনাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরছেন এবং যৌক্তিকভাবে একে অপরের সমালোচনা করছেন।

‘আমাদের দুটো অধিবেশনে যে কার্যকারিতা ও প্রাণচাঞ্চল্য আমরা সংসদে দেখেছি, দীর্ঘকাল সেটা ছিল না। নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যারা এসেছেন, তারা সংসদে জনগণের কথা তুলে ধরছেন। জনগণের সুখ-দুঃখ, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয়ে আলোকপাত করছেন।’

বাংলাদেশকে আগামী ৫০ বা ১০০ বছর পর এমন একটি দেশ হিসেবে দেখতে চান, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ পড়াশোনা, চিকিৎসা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

তিনি বলেন, শুধু কাগজে-কলমে ভালো প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই হবে না। প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং জবাবদিহির চর্চা কতটা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। কাগজে কী লেখা হলো, তার চেয়ে বাস্তবে গণতন্ত্রের অনুশীলন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে উল্লেখ করে নওশাদ জমির বলেন, সেখানে মূল বিষয় হতে হবে যোগ্যতা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমেও গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ নিজে দুর্নীতি না করলেও দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন কি না এবং এর বিরুদ্ধে কতজন দাঁড়াচ্ছেন, সেটি ভাবতে হবে। কেউ ঘুষ চাইলে ‘১০০ টাকা দেব না, দেখি কী হয়’-এমন অবস্থান নেওয়ার সাহস তৈরি করতে হবে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় আসার আহ্বান জানিয়ে নওশাদ জমির বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট দল বিদেশে খেললে যেমন সবাই দলের জয় চায়, তেমনি দেশের ক্ষেত্রেও ‘বাংলাদেশকে জিততে হবে’-এই মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এই চেতনা ধরে রাখতে পারলে একদিন বাংলাদেশ এমন একটি দেশে পরিণত হবে, যাকে সারা পৃথিবী উদাহরণ হিসেবে দেখবে।

এতে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব এবং নারী নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

এসএম/এমএএইচ/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *