আওয়ামী লীগকে ফেরাতে জামায়াত চক্রান্ত করছে: রাশেদ খাঁন
আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জামায়াতে ইসলামী একধরনের চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তবে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণ সোচ্চার রয়েছেন।আজ শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর রায়ডাঙা গ্রামে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন রাশেদ খাঁন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে এটার স্বীকৃতিও রয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, আওয়ামী লীগ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগের অধ্যায় ক্লোজড (শেষ) হয়ে গেছে। নতুন করে বাংলাদেশে আর আওয়ামী লীগের ফেরার সুযোগ নাই।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করছে। এ সময় জ্বালানি সংকটকে জাতীয় সংকট উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জ্বালানিসংকট একটি জাতীয় সংকট। জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত বা ১১-দলীয় জোট লংমার্চ করছে। এতে দেশে জ্বালানিসংকট তো আরও বাড়বে। আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি এভাবে লংমার্চ করেন, রাষ্ট্রকে অশান্ত করেন; তাহলে তো আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে।
জামায়াতে ইসলামীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, শেখ হাসিনা তো অপেক্ষা করছেন জামায়াত কত দিনে, কত সময়ে রাষ্ট্রকে অশান্ত করে। জামায়াতের ওপর নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ফিরে এলে শহীদ আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে, সেইভাবে আমাকে-আপনাকে হত্যা করবে।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, জামায়াত যদি মনে করে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৯৬ সালের মতো বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে, তাহলে দেশের জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে।
তিনি বলেন, ‘আমার স্পষ্ট কথা—যে সংগঠনটি শহীদ আবরার ফাহাদকে খুন করেছে, ওই সংগঠন বা ওই দলের আর বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নাই।’
জামায়াত চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগকে আর বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা আধিপত্যবিরোধী আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করি, তারা অবশ্যই রাজপথে থাকব। রাজপথে থেকে আওয়ামী লীগের সকল অপতৎপরতা মোকাবিলা করব।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘আবরার ফাহাদের চেতনা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হচ্ছে। খুনি হাসিনা এবং শহীদ হাদির (শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার) আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট না করলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন না। এটিই তো আবরার ফাহাদের চেতনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করে। এই জন্য তো আমরা ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলছি। অতীতের রাখিবন্ধন ছিন্ন করে আমরা ভারতের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্ক গড়তে চাই।’
এ সময় আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্যসচিব জাকির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার এবং কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
Source link
