অভাব জয় করে সালমার এ প্লাস, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে পাশে ডিসি ফরিদা
সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাবা চা বিক্রি করেন, মা কাজ করেন অন্যের বাসাবাড়িতে। সেই সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে রাজধানীর মধুবাগের উম্মে সালমা।
ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন উম্মে সালমার। কিন্তু ভালো ফলের পরও কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবারটি। সালমার এই সংগ্রাম ও মেধার কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সালমার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে উম্মে সালমার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর এবং পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি প্রকাশিত হয়। এতে জানা যায়, অর্থের অভাবে তার উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরই তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সহযোগিতার উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।
উম্মে সালমার বাবা মিরাজ আলী মধুবাগ এলাকায় চা বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালান। মা নাজমা বেগম কাজ করেন বিভিন্ন বাসাবাড়িতে। তাদের আয়ের বড় অংশই সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে চলে যায়। এরপরও মেয়ের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে চেষ্টা করে গেছেন বাবা-মা।
মিরাজ আলী বলেন, চা বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। এর মধ্যেও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসতে হয়েছে। এসএসসিতে মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর তাকে আনন্দিত করেছে। তবে কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার ব্যয় কীভাবে বহন করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
জেলা প্রশাসক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে বলে জানান তিনি।
নাজমা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি মেয়ের আগ্রহ রয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। তার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। অর্থের অভাবে যেন সেই স্বপ্ন থেমে না যায়, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়ায় মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা এখন অনেকটাই আশ্বস্ত বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, আর্থিক সংকটের মধ্যেও উম্মে সালমার জিপিএ-৫ অর্জন তার মেধা, পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের পরিচয়। তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সালমাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন শুধু অর্থের অভাবে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে, সেদিকে প্রশাসনের নজর রয়েছে।
ফরিদা খানম বলেন, উম্মে সালমার মতো মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব বাধা পেরিয়ে সালমা একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবে।
এমডিএএ/ইএ


