September 9, 2026

৬ কোটি টাকা না দিলে ফের জেলে যেতে হবে রাজপাল যাদবকে

0
buphain-hajaraka-mtsu24c0vwj0154-20260908213831.jpg


চেক বাউন্স মামলার জটিলতা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বলিউডের অভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতা রাজপাল যাদবের। বকেয়া টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় গত জুলাইয়ে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। একইসঙ্গে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন অভিনেতা। এবার সেখানেও কঠিন শর্তের মুখে পড়লেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজপালের আবেদনের শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চ অভিনেতাকে ৫ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা
) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত অর্থ জমা না দিলে তাকে ফের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আদালত। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর।

এর আগে ৯ কোটি রুপির চেক বাউন্স মামলায় গত ফেব্রুয়ারিতে রাজপালের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছিল দিল্লি হাই কোর্ট। তবে জামিনের সঙ্গে একাধিক শর্তও দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় পরে তাকে ফের তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালত জানিয়েছিল, মামলাটির নিষ্পত্তির জন্য রাজপালকে একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বকেয়া অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার সময় পেয়েও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি। এ কারণেই তাকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে দিল্লি হাই কোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রাজপাল। মঙ্গলবার শুনানি শেষে শীর্ষ আদালত তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে নোটিশ জারি করেন এবং ৫ কোটি রুপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রাজপালের বিরুদ্ধে এই মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালে। ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমা নির্মাণের জন্য দিল্লির মুরালি প্রজেক্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় সেই অর্থ ফেরত দিতে পারেননি অভিনেতা। পরে বিষয়টি গড়ায় আদালতে।

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে চেক বাউন্সের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপালকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেন অভিনেতা ও তার স্ত্রী। পরে তাদের সাজা স্থগিত করা হয়।

২০২৪ সালে মামলাটিতে ফের দোষী সাব্যস্ত হন রাজপাল। তবে সমঝোতা কিংবা বকেয়া অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তাকে। এর মধ্যে দুই দফায় ২ কোটি ২৫ লাখ রুপি পরিশোধ করলেও বাকি অর্থ আর পরিশোধ করা হয়নি।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই রাজপালের বিরুদ্ধে আবারও কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় দিল্লি হাই কোর্ট। এবার সুপ্রিম কোর্টও তাকে ৫ কোটি রুপি জমা দেওয়ার কঠোর শর্ত দিয়েছে। ফলে আগামী শুনানির আগে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে ফের জেলে যেতে হতে পারে বলিউডের এই জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতাকে।

এমএমএফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *