September 10, 2026

সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামানের সম্পদ অবরুদ্ধের উদ্যোগ, আদালতের অনুমোদন

0
og_1788880606_6aa026de9b66f.jpeg


সিঙ্গাপুরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর অনুমতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. তানজির আহমেদ।

আদালতের আদেশের ফলে সিঙ্গাপুরে থাকা সংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের বিষয়ে দেশটির বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধ’ (এমএলএআর) পাঠাতে পারবে দুদক।

দুদকের উপ-পরিচালক ও তদন্ত দলের প্রধান মো. মোশিউর রহমানের সই করা আবেদনে বলা হয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার সহযোগী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এ অনুসন্ধানে দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে নয় সদস্যের একটি যৌথ টাস্কফোর্স কাজ করছে।

টাস্কফোর্সের অনুসন্ধানে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে আবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে আটটি ব্যাংক হিসাব, একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদ এবং মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের এসবিসি ব্যাংকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যৌথ নামে তিনটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ হিসাব রয়েছে। এ ছাড়া ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক পিজেএসসি, সিটিব্যাংক (যুক্তরাষ্ট্র) এবং ডিবিএস ব্যাংকেও বিভিন্ন হিসাব ও আমানতের তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগের মধ্যে আরামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড, জেডটিএস প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং নিউ ভেঞ্চারস (লন্ডন) লিমিটেডের নামে বিনিয়োগের তথ্যও রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘জাসা ওশান পিটিই লিমিটেড’ নামে সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের দায়িত্বে থাকার তথ্যও পেয়েছে টাস্কফোর্স। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নম্বর ২০১১০৩৮৬৯জি। নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ৩ মে পর্যন্ত সাইফুজ্জামান চৌধুরী প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ছিলেন।

দুদকের আবেদনে সিঙ্গাপুরের ‘১০ সেন্ট থমাস ওয়াক, ৮, সেন্ট থমাস, ০৮-০৬, সিঙ্গাপুর ২৩৮১০২’ ঠিকানায় থাকা একটি অভিজাত স্থাবর সম্পত্তির তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৭ জুন ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে সম্পত্তিটি কেনা হয়। এর মালিকানা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের দাবি, টাস্কফোর্স গোপন সূত্রে জানতে পেরেছে, সিঙ্গাপুরে থাকা এসব স্থাবর সম্পত্তি দ্রুত হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করছেন অভিযুক্তরা। সম্পদ হস্তান্তর বা সরিয়ে নেওয়া হলে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ এবং ব্যাংক হিসাবগুলো অবিলম্বে অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানায় দুদক। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের জন্য ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধ’ বা এমএলএআরের আওতায় সিঙ্গাপুরের বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়।

দুদকের সেই আবেদন শুনানি শেষে মঞ্জুর করেন আদালত।

এমডিএএ/এমএএইচ/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *