September 8, 2026

মৈত্রী এক্সপ্রেস নিয়ে শিগগির সুখবর, যেকোনো সময় চালুর তারিখ ঘোষণা

0
og_1788855887_6a9fc64f5a36d.jpeg


ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগির সুখবর আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ট্রেনটি চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। খুব শিগগির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘এখন আমরা এরোপ্লেনে(বিমান) যাই, ওইটা হচ্ছে একটা আলাদা ক্লাস। সেখানে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ সড়ক, রেল দিয়ে যাতায়াত করে। আমি তো রেলমন্ত্রী ছিলাম। রেলমন্ত্রী মানে সাধারণ মানুষ।’

রেলের সাধারণ যাত্রীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা ট্রেন ছিল, যার নাম ছিল গরিব রথ। মানে যারা একদম সাধারণ মানুষ, তারা রেলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘তাহলে আমাদের দায়িত্ব এটাই হচ্ছে যে, রেল মাঝে হোয়াটএভার বি দ্য রিজন, বন্ধ ছিল। কিন্তু ফ্রেট (মালবাহী ট্রেন) বন্ধ হয়নি। ফ্রেট তো আমি শুনলাম যে অলমোস্ট ডাবল হয়ে গেছে। ওটা খুবই ভালো কথা। তার মানে ট্রেড চলছে।’

মালবাহী ট্রেনের এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আরও কীভাবে আমরা ওই ট্রেডটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। তাহলে সড়ক, রেল আর জল।’

মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আর মনে হচ্ছে খুব শিগগির আমরা একটা ভালো খবর দিতে পারব, মৈত্রী এক্সপ্রেসের।’

তিনি বলেন, ‘অনেক কিছু আছে, খবরের কাগজে আমি দেখলাম। আর ওই দিশাতে আমরা একটা শুভ খবর, আমার মনে হচ্ছে, আসছে। আর খুব শিগগির আসবে। চেষ্টা হচ্ছে আর্লিয়েস্ট।’ 

হাইকমিশনার বলেন, ‘খুব শিগগির আমরা একটা ফিক্সড ডেট দিয়ে দিতে পারব।’ 

ট্রেনটি কবে থেকে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তারিখ যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে বলে জানান তিনি।

দুই দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ করার বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় একটা কথা বললেন যে, একটা রুটে এখন ছয় ঘণ্টা, সাত ঘণ্টা লাগছে, কীভাবে তিন ঘণ্টা কমানো যায়। ওইটা পদ্মা ব্রিজ নিয়ে কিংবা ওইসব টেকনিক্যালি কথা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু ভালো কথা এইটা যে, শিগগির আমরা একটা ফিক্সড ডেট দিয়ে দিতে পারব। এখনও মিটিং চলছে, এইটাই এখনও চলছে। খুবই ভালো লাগল।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতিক্রিয়া

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আজ সকালে আমার খুবই একটা ভালো দিন বলতে পারেন। অনারেবল প্রেসিডেন্ট অব দ্য রিপাবলিক অব বাংলাদেশের সঙ্গে আমার ভালো সময় কেটেছে। একটা কার্টসি মিটিং ছিল। আমি আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দিতে চাই। উনি একজন স্টেটসম্যান। উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’

তিনি বলেন, ‘পাবলিক লাইফে উনার যে পুরো অভিজ্ঞতা, অর্থনীতিবিদ হিসেবে বলুন, থিয়েটার পারসোনালিটি হিসেবে বলুন, সব দিক থেকেই। আমার খুবই ভালো লাগল, খুবই ভালো সুযোগ ছিল।’

তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ফেরত এবং তার কথা বলার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কমিশনার বলেন, ‘পলিটিক্যাল কথা একটা আলাদা বিষয় আছে। এর মধ্যে অনেক কথাবার্তা হয়েছে, আমি এর মধ্যে আজকে ঢুকতে চাই না। আজকে যা হয়েছে, ওইটা গভীর। আজকে যা কথা হয়েছে, ওইটা সাধারণ মানুষকে নিয়ে।’

দীনেশ ত্রিবেদী আবারও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘যা ডেমোক্রেসি, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে যা আছে, যা ওদের ভালো, ওইটাই মন্ত্রী মহোদয়ের আর আমার… এটাই কথা হয়েছে। পিপল টু পিপল।’

দুই দেশের স্বার্থে যোগাযোগ বাড়ানোর আলোচনা
এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে ভারতের চলমান বিভিন্ন কাজ ও সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাজ আছে, কাজ চলমান আছে। তার আবার অগ্রগতিরও প্রয়োজন আছে। কীভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, কীভাবে আরও দুই দেশকে লাভবান করা যায়, দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বাণিজ্য, যোগাযোগ, অর্থনীতি এগুলো কীভাবে প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়ে খুব ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে উনি এসেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও সেগুলোকে খুব ইতিবাচকভাবে দুই দেশের স্বার্থে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেগুলো নিয়ে কিছুটা কথা বলেছি।’ 

তিনি বলেন, বিশেষ করে যোগাযোগ খাতে ট্রেন, সড়ক ও স্থলবন্দর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব খাতে অনেক কাজ চলমান। মালবাহী ট্রেন চালু থাকার পাশাপাশি এর সক্ষমতাও বেড়েছে এবং পরিবহন সক্ষমতা আরও বাড়ছে।

যাত্রীবাহী ট্রেন বর্তমানে বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘অ্যাট দ্য সেম টাইম, যাত্রীবাহী ট্রেনটা এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। তো সেটা কীভাবে চালু করা যায়, সে বিষয় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে একটু কথা হয়েছে।’

কবে নাগাদ চালু হতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না না, সেগুলো তো ধরেন বন্ধ আছে। ভারতের তরফ থেকে সিকিউরিটি রিজনে সেটা বন্ধ করা হয়েছে। তো সেটা বন্ধ আছে। আবার কীভাবে চালু করারও প্রয়োজন আছে, এখন কীভাবে চালু করা যায়, সে বিষয়ে দুই রাষ্ট্রই ইতিবাচকভাবে ভাবছে।’

আরএমএম/জেএইচ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *