September 9, 2026

ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা, দৃশ্যমাধ্যমের বিবৃতিতে বিচার চাইলেন ১২২ জন

0
og_1788945678_6aa1250e8f0f3.jpeg


ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলা, শারীরিক হেনস্তা ও অপমানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই হামলায় জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। 

সেই বিবৃতিতে রয়েছে ১২২ জন শিল্পী ও কলাকুশলীর নাম।

‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘একজন শিল্পীকে তার রাজনৈতিক অবস্থান, মতপ্রকাশ কিংবা গণআন্দোলনে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা শুধু নিন্দনীয় নয়, এটি মতের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।

মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে বাঁধন এবং তার সহশিল্পীরা যখন ইতালিতে ভ্রমণ করছে, ঠিক তখন কতিপয় আওয়ামী দুষ্কৃতিকারীদের হাতে এই হামলার ঘটনা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘স্বৈরাচারবিরোধী জুলাই গণঅভুথানের উত্তাল সময়ে দেশের বহু শিল্পীর সঙ্গ আজমেরী হক বাঁধনও অন্যায়, হত্যা, দমন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন। শিল্পীর স্বাধীনতা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতের অনুগতের ওপর নির্ভর করে না। যে শিল্পী কথা বলার অধিকার রাখেন, তিনি একই সঙ্গে নীরব থাকারও অধিকার রাখেন; তার মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার অধিকার আমাদের আছে, কিন্তু তাকে অপমান, ভয় দেখানো কিংবা তাঁর শরীরে হাত তোলায় অধিকার কারও নেই।’

যোগ করে শিল্পীরা বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাজনৈতিক মতের বিরোধিতা কখনও সহিংসতার লাইসেন্স হতে পারে না। একজন নারী শিল্পীর গায়ে হাত তোলা, তাঁকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনো প্রতিবাদের ভাষা নয়; এটি নিছক সহিংসতা এবং ফ্যাসিবাদী ক্ষমতার সেই পুরনো সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি, যেখানে যুক্তির বদলে শরীরকে আঘাত করা হয়, কথার বদলে ভয় দেখানো হয়।’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছিল স্বাধীনতার জন্য জীবন দেওয়া যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে ভয়কে অতিক্রম করে কথা বলা যায়।

এমন ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার পর কোনো শিল্পীকে আবার তার মতের জন্য ভয় দেখানো, হেনস্তা করা বা আক্রমণ করা আমরা মেনে নেব না। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচারের মূলনীতিতে একাত্তর ও চব্বিশের কোনো চেতনা যদি কিছু হয়ে থাকে, তবে তা হলো মানুষের কথা বলার অধিকার, ভিন্নমতের অধিকার এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অধিকার।’

বিবৃতিতে শিল্পীরা বলেন, ‘দৃশ্যমাধ্যম সমাজ এই হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ বিচারের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা আজমেরী হক বাঁধনের পাশে আমাদের দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি। আমরা আবারও স্পষ্ট করে বলছি- শিল্পীর শরীর কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ক্ষেত্র নয়, শিল্পীর কণ্ঠ কোনো ভয়ের কাছে জিম্মি নয়। মতের বিরুদ্ধে মত আসুক, যুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি আসুক; কিন্তু সহিংসতা নয়।’

এই তালিকায় আছেন আহমেদ ইবনে আরিফ, ফাহিম ইসলাম, আলরাফ পারমিজ, ইয়াসির আল হক, নাসিফ আমিন, জাহিদুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম নাহিদ, সাঈদ উজাল, খন্দকার তানভীর মুরাদ, ধ্রুব হাসান, সৈয়দা নিলিমা দোলা, শিমুল সালাহউদ্দিন, সজীব তানভীর, মায়েদা তানহা, বিদুশী, নায়না রাহা, বাবুনী রহমান, মসফিকুর রহমান জোহান, মুহিব্বুল মুকতাদির তানিম, মিশুক আশরাফুল আওয়াল, আবদুল হালিম, চঞ্চল, এডিলা ফরিদ, তুরিন, আরিফ নূর, তানিম নূর, রাফসান আহমেদ, রাকিবা আমাতুল করিম, হুমায়রা বিলকিস, সালিমুল্লাহ খান, তাহমিদ চৌধুরী, মো. আল হাসিব খান, আনন্দ, তফাজ্জল হোসেন, রামশা শাহরিয়ার, সরকার প্রতীক, তাসলিমা আখতার, মনজুর আল মতিন, জহিরুল ইসলাম কোচি, সারা আহমেদ, অভিজিৎ শুভ, তানভীর আল আজাদ, আনর্য মুর্শিদ, ড. আনন এইচ. সিদ্দিকী, ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, ফারজানা জেরীন, সুস্মিতা রায় সুপ্তি।

আরও আছেন সীমা, মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, গোলাম রাব্বানী, আবদুল্লাহ বায়েগ, মো. রায়হানুর রহমান, শায়ান, মো. সাইফুল ইসলাম, নেয়ামত উল্লাহ মাসুম, আয়মান আসিব স্বাধীন, আবিদ সরকার সোহাগ, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, মুশফিকুর রহমান, মোহাম্মদ রোমেল, মাহতাব উদ্দিন, মঞ্জুরুল ইকরাম, মুহাম্মদ কাইয়ুম, এম হাসান, আমিরুল রাজীব, মোহাম্মদ মনির হোসাইন, শাহ নেওয়াজ শাইকত, মো. তানভীর রহমান, অনুপম শাইকত শান্ত, তন্ময় কর্মকার, মারজিয়া মিথিলা, মনোজ প্রামাণিক, শাহ নেওয়াজ খান, জাহীন ফারুক আমিন, আবুল খায়ের মোহাম্মদ আরিকুজ্জামান, তানজিম ওয়াহাব, সায়দিয়া গুলরুখ, হাসান রোবায়েত, নাঈম উল হাসান, মোমিন সেতু, মাহমুদুল রাফিক, তাজনুভা জাবীন, মোজাহিদ, মো. জিহাদ, ফারিহা শামস শিউতি, লাবণী মণ্ডল, নাজমুস সাকিব, রফিকুজ্জামান ফরিদ, রেবেকা নীলা।

এছাড়াও বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন অনুপ কুণ্ডু, রুবায়েত মাহমুদ, আবদুল্লাহ সেরু, মারিয়াম রূপা, ফরহাদুল আলম, তাহমিদাল জামি, আরিফ সোহেল, মাহফুজ চৌধুরী, মো. মনোয়ার হোসাইন, কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক ড. হাসান আশরাফ, আনিস রায়হান, অরুণিমা ইসলাম, মীর লোকমান, সাদিক এম আলম, রাহাত মুস্তাফিজ, স্নিগ্ধা সুলতানা, তানহা জাফরীন, মো. আবদুল ওয়াহাব সাকিন, মো. তৌহিদুল ইসলাম, নাজমুল আহমেদ, আনুশেহ আনাদিল, ফিরোজ আহমেদ, তানভীর আহসান, আকরাম খান, মো. মুন্তাসির রহমান, জান্নাতুল মাওয়া, এ এস এম রেজাউর রহমান।

 

এমআই/এলআইএ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *