পপুলার হাসপাতালে প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাইসহ নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ
নাটোরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ, পরে আবার অস্ত্রোপচার করে সেই গজ বের করা এবং প্রসূতির জরায়ু ও দুই ডিম্বাশয় অপসারণের দাবির পাশাপাশি এ ঘটনায় যমজ শিশুর একটির মৃত্যুর অভিযোগও করেছে পরিবার। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী সিভিল সার্জন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
ঘটনায় পাঁচজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মেহেদী হাসান মাসুম। তিনি নাটোর শহরের রথবাড়ী এলাকার সেলিম খানের ছেলে।
মেহেদী হাসান মাসুমের অভিযোগে বলা হয়, তার স্ত্রী নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় গত ১৪ জুলাই আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। পরীক্ষায় তার গর্ভে যমজ সন্তান থাকার কথা জানানো হয়। জায়গা কম থাকায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।
এরপর ১৮ জুলাই তাকে নাটোরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের একটি দল অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের পর যমজ দুই শিশুর একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৪ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২ আগস্ট শিশুটির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। পরিবারের অভিযোগ, তার পেটের ভেতরে গজ বা প্যাড রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই রাতে প্রসূতিকে রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটের ভেতর থেকে আগের অস্ত্রোপচারে রেখে যাওয়া গজ/প্যাড বের করা হয় বলে পরিবারের দাবি। একই সময় তার জরায়ু ও দুই ডিম্বাশয় অপসারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও প্রসূতির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
শিশুর মৃত্যু ও প্রসূতির অস্ত্রোপচার নিয়ে ক্ষোভ
একই ঘটনায় একদিকে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ এবং অন্যদিকে প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই, পরে তা বের করতে পুনরায় অস্ত্রোপচার এবং জরায়ু ও দুই ডিম্বাশয় অপসারণের অভিযোগ ওঠায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পরে সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ আরেফিন তদন্ত করার আশ্বাস দিলে তারা অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
অভিযোগে ডা. সুব্রত কুমার, সার্জন ডা. লিয়াকত আলী, সহকারী সার্জন শামীম, স্যাকমো নানু এবং সহকারী ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মেহেদী হাসান মাসুম এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তার পরিবারের ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে নাটোর থানার ওসি মনসুর আহমেদ বলেন, আমি একটু বাইরে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রেজাউল করিম রেজা/এফএ
