জার্মানিতে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বার্ষিক সম্মেলন
জার্মানির মেনডিংয়ে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বার্ষিক সম্মেলনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুপম শিক্ষার আলোকে বিশ্বে ন্যায়নীতি ও শান্তি স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার সঙ্গে আহমদীয়া জামা’তের পতাকা উত্তোলন ও দোয়ার মাধ্যমে আহমদীয়া মুসলিম জামাত জার্মানির ৫০তম বার্ষিক জলসার উদ্বোধন করা হয়। আহমদীয়া মুসলিম জামাত, জার্মানির ন্যাশন্যাল আমির আব্দুল্লাহ ওয়াগিস হাউজার এটি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩০মিনিটে যুক্তরাজ্য থেকে বিশ্ব আহমদীয়া খলিফা হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.) সমাপনী বক্তব্য দেন।
জার্মানির এই বৃহত্তম মুসলিম সম্মেলনে সমবেত হয়েছিলেন ৪৮ হাজারের অধিক ধর্মপ্রাণ সদস্য। জলসায় বক্তারা পবিত্র কোরআনের অনুপম সৌন্দর্য, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় মহানবীর (সা.) অতুলনীয় আদর্শ, সন্তান লালন-পালনে পিতামাতার দায়িত্ব এবং ইসলামি অর্থনৈতিক বিশ্বব্যবস্থা বিষয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রখ্যাত আলেমরা বক্তব্য রাখেন। জলসার দ্বিতীয় দিন যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নারীদের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন বিশ্ব আহমদীয়া খলিফা হযরত মির্যা মাসরূর আহমদ (আই.)।
জলসার সমাপনী বক্তব্যে বিশ্ব আহমদীয়া খলিফা যথাসময়ে নামাজ আদায়, শিরক থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা, ঋণ পরিশোধের বিষয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা এবং বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আহমদী মুসলমানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন।
শেষে তিনি বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। জলসা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ভিডিও ও লিখিত বার্তা পাঠান।
একমাস আগে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত জলসায় উপস্থিতির সংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের অধিক। জার্মানি জলসার উপস্থিতি সংখ্যা ৪৮ হাজারের অধিক।
১৯২২ সালে বাংলার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ খান সাহেব মৌলবী মোবারক আলী সর্বপ্রথম জার্মানিতে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের পক্ষ থেকে ইসলাম প্রচারক ও ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৩ সালে তারই উদ্যোগে বার্লিনে প্রথম মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর রাখা হয়, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে মসজিদ নির্মাণ বিলম্বিত হয়।
কেএসআর/


