September 10, 2026

গেন্ডারিয়ায় মাদক নিয়ে গোলাগুলি, গ্রেফতার ৫

0
sheikh-hasina-selim-mtv0sigv3ptx70p-20260910103041.jpg


 

রাজধানীর গেন্ডারিয়া স্বামীবাগ করাতীটোলা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক নারীসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের লুট হওয়া গোলাবারুদসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১০।

র‍্যাব বলছে, ‌‘আমাদের মেসেজ একটাই—যে কোনো অপরাধী অপরাধ করে যেন পার না পায়।’

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ৩০ আগস্ট রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার করাতীটোলা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় এক নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে আশা আক্তার (২০) ও সিয়াম (১৮) সাধারণ পথচারী এবং আলমগীর (৩৩) চা-দোকানি ছিলেন।

অধিনায়ক বলেন, গোলাগুলির সময় আশা আক্তারের ডান পায়ে, সিয়ামের বুকের বাম পাশে এবং আলমগীরের মাথায় গুলি লাগে। আহত আলমগীর হোসেন রাসেল ও সিয়াম হোসেন রুবেলের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং বর্তমানে তারা সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তবে আয়েশা আক্তারও বর্তমানে সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন কিন্তু তার পায়ে থাকা গুলিটি এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই র‍্যাব-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোলাগুলির ঘটনায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়া থানাধীন মুন্সিরটেক এলাকা থেকে মোহাম্মদ জিসান (১৯) ও মোহাম্মদ রমজান (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ শাহীনকে (৩৪) গ্রেফতার করা হয়।

পৃথক অভিযানের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল (৯ সেপ্টেম্বর) শাবাব হোসেন শৈকত (২৯) এবং মোহাম্মদ মাহিমকে (১৮) গ্রেফতার করা হয়। শাবাব হোসেন শৈকতকে গ্রেফতারের অভিযানে তার কাছ থেকে ১২ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩টি ম্যাগাজিনসহ ২টি বিদেশি পিস্তল, ৩ লাখ ১৩ হাজার মূল্যমানের ৪২০ পিস ইয়াবা, ৪০০ পুরিয়া হেরোইন ও ৯০০ গ্রাম গাঁজা এবং নগদ অর্থ ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার শাবাব হোসেন শৈকত যাত্রাবাড়ী থানার তিনটি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি বলেও জানান তিনি।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, উদ্ধার করা ১২ রাউন্ড গুলি এবং তিনটি ম্যাগাজিনের মধ্যে একটি ম্যাগাজিন ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রের ম্যাগাজিন ও গোলাবারুদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় র‍্যাব পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র, মাদক এবং পুলিশের লুণ্ঠিত গোলাবারুদের উৎস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় ডিবি বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে এবং ডিবি দাবি করেছে, সেখানে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই ঘটনাটা ঘটেছিল। আপনাদের তদন্তে আসলে ফাইন্ডিংটা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে এটাই সঠিক কথা। এখানে আধিপত্যর একটা বিষয় ছিল। আমি প্রথমেই বলেছি—মনির এবং অটো সজলের গ্রুপ ছিল। সেখানে তাদের উভয় গ্রুপের মধ্যেই এটা প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটে এবং সেখানে যখন ওপেন গুলি শুরু হয়, তখন রাস্তায় তিনজন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়। আমাদের মেসেজ একটাই—যে কোনো অপরাধী অপরাধ করে যেন পার না পায়। অপরাধীকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা আমাদের প্রাইম রেসপন্সিবিলিটি। সেই আলোকেই আমরা ডন টু ডাস্ক আমাদের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে এই ধরনের কিশোর গ্যাং, মাদক কিংবা অস্ত্রের যে ঝনঝনানি—সেগুলো আমরা সমূলে উৎপাটন করব।

কেআর/এমআরএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *