August 30, 2026

আর্থিক ক্ষতি পোষানোর দাবিতে সোচ্চার ক্রিকেটাররা

0
og_1788101334_6a9442d6058cb.jpeg


বিসিবি নীতিগতভাবে এ বছর বিপিএল আয়োজন করতে রাজি নয়। বিপিএলের কাঠামোগত উন্নয়ন, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও নানা রকম বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনা বন্ধের লক্ষ্যেই এ বছর বিপিএল বন্ধ রেখে আগামীতে ত্রুটিমুক্ত বিপিএল আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবালের কণ্ঠে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নামমুক্ত তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি- ইশতিয়াক সাদেক (রংপুর রাইডার্স), মোকসেদুল কামাল বাবু (রাজশাহীর স্বত্বাধিকারী) ও আতিক ফাহাদ (সিইও ঢাকা ক্যাপিটালস) বিসিবির সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকাল ২৯ আগস্ট তা মেনেও নিয়েছেন।

এই তিন ফ্রাঞ্চাইজি জানিয়ে দিয়েছে, তারাও চান বিপিএল কালো দাগমুক্ত হোক। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা দূর হোক। একটি সাজানো-গোছানো বিপিএল তাদেরও কাম্য। তাই তারা এ বছর বিপিএল না খেলতেও রাজি। আগামীবার ত্রুটিমুক্ত বিপিএলে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার ওই তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির কণ্ঠে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আগেরবারের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও নানা বিতর্কিত ঘটনার পর ওই তিন ফ্র্যাঞ্চাইজিই পরবর্তীতে বিপিএলে অংশ নেওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন।

তারা যখন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত যে, আগের মতো নয়, নতুন কাঠামোয় সুন্দর, সাজানো-গোছানো বিপিএল আয়োজনই কাম্য, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না যে বিসিবির পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্তই বহাল থাকতে যাচ্ছে। মানে এবার আর বিপিএল হবে না।

এমনটা নিশ্চিত ধরার পরও কথা থেকে যায়। কারণ আয়োজক, ব্যবস্থাপক বিসিবির সঙ্গে দলের মালিকরা একমত, এবার বিপিএল না হলেও সমস্যা নেই। উভয় পক্ষই ত্রুটিমুক্ত, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনামুক্ত বিপিএল চান। কিন্তু যারা খেলেন, খেলবেন- সেই ক্রিকেটারদের বক্তব্য কী?

মাঝে গত সপ্তাহে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ‘কোয়াব’ সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন, জাতীয় দল অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পর তারা নিজেরা বসে কথাবার্তা বলে বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানেই কোয়াবের অবস্থান জানানো হবে বোর্ডকে। বিসিবি এবার বিপিএল আয়োজন করতে না চাইলে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পোষাতে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন।

কোয়াব প্রধানের শেষ কথা ছিল, ‘দেখা যাক আমাদের ক্রিকেটাররা কী চায়? আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সবার মতামত নিয়েই বিসিবির সঙ্গে বসব। একটা বিকল্প প্রস্তাবও পেশ করব। দেখি বিসিবি কী বলে?’

জাতীয় দল অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার দুদিন পর অবশেষে আজ বেলা ১২টা নাগাদ কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ও জাতীয় দলের প্রায় সব সিনিয়র ক্রিকেটার বৈঠকে বসেছিলেন।

প্রায় ঘণ্টা দেড়েক নিজেদের মধ্যে কথা বলার পর কোয়াব তথা ক্রিকেটাররা আবার তামিম ইকবালসহ বিসিবির শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও একান্তে কথা বলেছেন। কিন্তু একদম অথেনটিক খবর, সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।

ক্রিকেটাররা নিজেরা বসে আগেই ঠিক করে ফেলেন যে, বিসিবি যেহেতু এবার বিপিএল করতে চাচ্ছে না, তাহলে ক্রিকেটারদের যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তা পোষাতে একটা বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু আজ রোববারের বিসিবি ও ক্রিকেটারদের বৈঠকে তার কোনো ফলপ্রসূ সমাধান হয়নি।

কোয়াব প্রধান মোহাম্মদ মিঠুন আজ রোববার সন্ধ্যার পর জাগো নিউজকে জানালেন, ‘আমরা আগেভাগেই জেনেছি যে, বিসিবি চায় না এবার বিপিএল করতে। আজকের মিটিং শুরুর আগেও আমাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এবার বিপিএল হবে না। আমরা তা জেনে, শুনে ও বুঝেই কথা বলেছি। মানে আমরাও এ বছর বিপিএল চাইনি। তবে বিপিএল সময়মতো না হলে ক্রিকেটারদের যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তা কিভাবে পোষানো যায়, তা নিয়েই কথা বলেছি। সে কারণেই আমাদের (কোয়াব ও ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে) একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু বিসিবি আমাদের সে প্রস্তাবে আজকে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাতে করে আমাদের ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হবে।’

বিসিবি যা জানিয়েছে, তাতে করে যারা ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার আছে, তারা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মিঠুন যোগ করেন, ‘যারা ‘ডি’ ও ‘ই’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার, মানে অল্প টাকায় বিপিএল খেলে, তাদের তেমন ক্ষতি হবে না।

কারণ বিসিবি বিপিএল যখন অনুষ্ঠিত হয়, সেই জানুয়ারি (২০২৭) ও ফেব্রুয়ারিতে এনসিএল আয়োজন করতে চাচ্ছে। বিসিবির পক্ষ থেকে যে অর্থনৈতিক স্ট্রাকচারে এবারের এনসিএল আয়োজনের কথা বলা হচ্ছে, তাতে করে যারা বিপিএলে ২৫-৩০ থেকে ৪০-৫০ ও ৬০ লাখ টাকা পায়, তাদের বেশ বড় ধরনের ক্ষতি হবে। তারা বিপিএল না হলে সেই আর্থিক ক্ষতি পোষানোর দাবিতে সোচ্চার।’

ধরেই নেওয়া যায়, মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তানজিদ তামিম, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো ফ্রন্টলাইন ক্রিকেটার, যারা গড়পড়তা ৪০ থেকে ৬০ লাখ কিংবা তারও বেশি পরিমাণ টাকায় বিক্রি হন, তারা এনসিএল খেলে আর কত টাকা পাবেন? বড়জোর বিপিএলের ১০ ভাগের এক ভাগ।

সেক্ষেত্রে বিপিএল খেলে যারা গড়পড়তা ৫/৭ লাখ টাকা পান, তারা এনসিএল খেলে প্রায় ওই পরিমাণ ম্যাচ ফি পাবেন। কাজেই সঙ্গত কারণেই ক্রিকেটাররা বিসিবির কথা মেনে নেয়নি। তারা আবার নিজেরা বসে কথা বলার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন। এবং আগামী ১ সেপ্টেম্বর আবার বিসিবির সঙ্গে বসে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন।

জানা গেছে, বিসিবির কাছ থেকে বিপিএলের ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা নিজেদের আর্থিক ক্ষতি পোষানোর দাবিটা আবারও জোরালোভাবে উত্থাপন করতে মুখিয়ে আছেন। তাদের চাহিদামতো আর্থিক ক্ষতি পোষানো ছাড়া এখন বিসিবির সামনে আর বিকল্পও নেই।

দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়?

কোয়াব সভাপতি মিঠুনের কণ্ঠে সে কথাই ফুটে উঠল, ‘আগামী ১ সেপ্টেম্বর আমরা যখন বোর্ডের সঙ্গে আবার বসব, তখন আমাদের জানাতে হবে বিপিএল না হলে আমাদের আর্থিক ক্ষতিটা কিভাবে, কেমন করে পোষানো হবে? বিসিবি আমাদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে রাজি থাকলেই ল্যাঠা চুকে যাবে। অন্যথায় কিন্তু সমাধান হবে না। ঝুলে থাকবে।’

এআরবি/আইএইচএস



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *