August 31, 2026

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুদকের নতুন অভিযাত্রা

0
og_1788167393_6a9544e1261f4.jpeg


আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাসের সঙ্গে দুর্নীতি শব্দটি এক অন্ধকার ছায়ার মতো জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছিল শোষণহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে এসেও সুশাসনের মূল ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি, যার পেছনে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করেছে রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেঁথে থাকা দুর্নীতি। দুর্নীতি রোধ এবং দেশে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে বিলুপ্ত করে ২০০৪ সালে যখন একটি স্বতন্ত্র এবং সাংবিধানিক রূপকল্প নিয়ে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ বা দুদক গঠন করা হয়, তখন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ—সবার মনেই একটি গভীর আশা জেগেছিল। প্রত্যাশা ছিল, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় জীবনে সুশাসনের প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

দুদকের এই অবক্ষয় ও নৈতিক পতনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গেলে আমাদের বিগত দুই দশকের রাজনৈতিক উত্তাল দিনগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করতে হয়। ক্ষমতার পালাবদল কিংবা স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিষ্ঠা—প্রতিটি অধ্যায়েই দুদককে একটি সাংবিধানিক নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের বদলে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালের এক-এগারোর মইন-ফখরু সরকারের অনির্বাচিত শাসনকালে তথাকথিত ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়ন এবং রাজনীতিমুক্তকরণের নীল নকশার অংশ হিসেবে প্রথম অত্যন্ত নগ্নভাবে দুদককে ব্যবহার করা হয়।

সেই সময়ে দুর্নীতিবিরোধী টাস্কফোর্সের নামে দুদকের কাঁধে বন্দুক রেখে কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া বা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রকাশ করা হতো। তথাকথিত দুর্নীতির তকমা দিয়ে রাজনীতিবিদদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং ব্যবসায়ীদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি চালানোর এক ভয়াবহ সংস্কৃতি শুরু হয়। জোরপূর্বক জরিমানা আদায় এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের কারারুদ্ধ করার কাজটিতে দুদক কেবল নিরব দর্শক ছিল না, বরং সক্রিয় সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছিল।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দুদকের স্বাধীন সত্ত্বাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। পতিত ও পলাতক স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের অধীনে দুদক পরিণত হয় দলীয় ক্যাডার ও অনুগত আমলাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে। যেসব আমলা সরকারের অনুগত ছিলেন, তাদের দুদকের শীর্ষ পদে বসিয়ে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে শেখ হাসিনাসহ নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত দুর্নীতির মামলা একে একে প্রত্যাহার করে নেয় কিংবা আইনি চাতুরতার মাধ্যমে দায়মুক্তি দেয়। কিন্তু অন্যদিকে, বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে করা ভিত্তিহীন মামলাগুলো বহাল রাখা হয় এবং ক্ষমতার জোরে রাজনৈতিক আদেশে সাজা ঘোষণা করা হয়।

এই রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতার সবচেয়ে নির্মম, লজ্জাজনক এবং নেক্কারজনক শিকার করা হয়েছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে নন্দিত ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তৎকালীন ফ্যাসিবাদের নির্দেশে এবং সরকারের ইশারায় একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদক বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেভাবে একটি কাল্পনিক ও মিথ্যা মামলা সাজিয়েছিল, তা বাংলাদেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী কলঙ্ক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলায় অত্যন্ত ঠুনকো, ভিত্তিহীন ও হাস্যকর অভিযোগে তাকে জড়ানো হয়েছিল। বাস্তব সত্য হচ্ছে, ব্যাংকের এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করে টাকা স্থানান্তরের একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়াকে কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই দুর্নীতির রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

একজন বয়স্ক, প্রবীণ এবং তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রীকে জঘন্যভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জেলে পুরে তার শারীরিক সুস্থতা ও জীবনকে ধোঁকাবাজির মাধ্যমে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হয়। বেগম খালেদা জিয়াকে যে ধরনের মনগড়া অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবতার নিরিখে বিচার করলে এই একই প্রক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া যুক্তিযুক্ত হয়ে দাঁড়ায়।

বস্তুত এটি বেগম খালেদা জিয়ার কোনো অপরাধ ছিল না; এটি ছিল তৎকালীন পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার, বিরোধী দলকে নেতৃত্বহীন করার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার এক ভয়াবহ চক্রান্ত। আর দুঃখজনকভাবে, দুর্নীতি দমন কমিশন সেই ক্ষমতার দাসের মতো স্বৈরাচারের প্রত্যক্ষ সহযোগীর ভূমিকা পালন করে একজন নির্দোষ নেত্রীকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল।

একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদক এই ঐতিহাসিক অপরাধ ও অপকর্মের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। বর্তমানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট ও উচ্চ আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে সমস্ত মিথ্যা অভিযোগ থেকে পূর্ণ খালাস দিয়েছেন, যা এই সত্যকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে যে মামলাটি ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাই নৈতিক শক্তিতে পুনর্জীবিত হতে হলে এবং নিজেদের অপরাধের আংশিক প্রায়শ্চিত্ত করতে হলে দুদকের বর্তমান কমিশনের উচিত বেগম খালেদা জিয়ার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

তাই দুদককে যদি সত্যিকার অর্থেই ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তবে প্রধান ও প্রথম কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন শুদ্ধি অভিযান চালানো। ভেতরের এই অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে তাদের চাকরিচ্যুত করা এবং আইনি শাস্তির মুখোমুখি করে মূলোৎপাটন করতে হবে।

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস কমিশনশূন্য থাকার পর সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক, একজন প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করে এবং ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার করে নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণ করেই প্রথম কার্যদিবসে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না এবং জনগণের হারিয়ে যাওয়া আস্থাকে ফিরিয়ে আনতে স্বাধীনভাবে কাজ করবেন।

বর্তমান সময়ে এসে কিন্তু দুদকের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ তৈরি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক নিয়ামক শক্তি হলো বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বিশেষ করে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত আন্তরিক, দৃঢ় এবং আপসহীন নীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি সত্যিকার অর্থেই দেশকে দীর্ঘকালের পুঞ্জীভূত প্রাতিষ্ঠানিক জঞ্জাল, অনিয়ম ও লুটেরাদের হাত থেকে মুক্ত করে একটি আধুনিক, কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চান। প্রধানমন্ত্রীর এই জিরো টলারেন্স নীতি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের সদিচ্ছাই দুদকের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব যদি দুর্নীতি দমনে আন্তরিক থাকে, তবে কোনো অশুভ শক্তিই দুদকের কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, এই নতুন কমিশন এবং সরকারের এই অনুকূল রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে দুদক তার ঐতিহাসিক দায়মুক্ত হতে পারবে কি না এবং নিজেদের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না? ঘুরে দাঁড়ানোর এই পথটি মোটেও মসৃণ নয়; এটি চ্যালেঞ্জে ভরা। তবে একটি সুনির্দিষ্ট, সাহসী এবং নিরপেক্ষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করলে দুদক অবশ্যই তার হারানো গৌরব ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

প্রথমত, দুদককে শপথ নিতে হবে যে তারা আর কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের বা সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। তাদের কাজের একমাত্র মানদণ্ড হতে হবে দেশের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান। অপরাধী কোন রাজনৈতিক দলের, তার পদ-পদবি কিংবা সে কতটা প্রভাবশালী—তা না দেখে শুধুমাত্র অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। “মুখ দেখে নয়, অপরাধ দেখে ব্যবস্থা” — এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই কেবল দুদকের নতুন যাত্রা শুরু হওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত, বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক স্বৈরাচারী শাসন এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যত মামলা, তদন্ত ও নোটিশ জারি করা হয়েছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে পুনঃপরীক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসব বিরোধী দলের নেতা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে এবং ভিত্তিহীন মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে, তাদের অবিলম্বে খালাস প্রদান ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যেসব ব্যবসায়ীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বেআইনিভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত মুক্ত করে দেশের ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

তৃতীয়ত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে সংঘটিত দুর্নীতির নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত শুরু করতে হবে।

চতুর্থত, পতিত পলাতক স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া লক্ষ কোটি টাকা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর ও বাস্তবমুখী টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ব্যাংকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া জটিল হলেও সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি সম্ভব।

সর্বোপরি, দুর্নীতি কেবল উদঘাটন ও সাজা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দুর্নীতি প্রতিরোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশনের ব্যবহার বাড়িয়ে ঘুষ লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করার ক্ষেত্রে দুদককে নীতিগত ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে। দুই দশকের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, স্বৈরাচারী অত্যাচার এবং প্রশাসনিক পচনের পর দেশের মানুষ এখন শান্ত, সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র চায়। দুর্নীতি দমন কমিশন যদি অতীতের অন্ধকার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে, বেগম খালেদা জিয়া সহ হাজারো রাজনৈতিক নির্যাতিত মানুষের প্রতি করা অন্যায়ের অনুশোচনা করে এবং নতুন কমিশনের অধীনে নৈতিক শক্তির পুনর্জাগরণ ঘটাতে পারে, তবেই তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধের শক্ত অবস্থান এবং বিচার বিভাগ থেকে আসা নতুন কমিশনের সদিচ্ছার যে অপূর্ব সমন্বয় আজ ঘটেছে, তা দুদককে এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দুদক কি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সত্যিকারের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, নাকি অতীতের মতো পুনরায় কোনো ক্ষমতার দাসে পরিণত হবে—তা সময়ই বলে দেবে। তবে দেশের মানুষের প্রত্যাশা: দুদক যেন আর কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লাঠিয়াল না হয়ে, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সুতরাং নতুন কমিশন যদি জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারে, তাহলেই কেবল হারানো ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ahabibhme@gmail.com

এইচআর/এএসএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *