August 31, 2026

যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করে দিচ্ছে?

0
og_1788166900_6a9542f40e4c1.jpeg


ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে ‘ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রোববার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক লাইনের এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

পোস্টের সঙ্গে বিস্ফোরণের একটি এআই ভিডিও ক্লিপও প্রকাশ করেন তিনি। তবে খার্গ দ্বীপে হামলা চলছে- এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত আর কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, Kharg Island being blown to smithereens!!! President DJT. এর অর্থ দাঁড়ায়- খার্গ দ্বীপ চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হচ্ছে!!! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি। তবে সেখানে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের পোস্টের সঙ্গে থাকা বিস্ফোরণের ভিডিওটিও যাচাই করেছে রয়টার্স। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত ছবি শনাক্ত করতে পারে- এমন একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভিডিওটি সম্ভবত কৃত্রিমভাবে তৈরি।

খার্গ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে খার্গে হামলা হলে দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হতে পারে ও ইরানের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ পড়তে পারে।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। এতে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে প্রতি সপ্তাহেই নতুন করে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হতে পারে। শুরুতে এসব নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হবে ব্যাংকগুলো।

বেসেন্ট বলেন, আমরা ব্যাংকগুলো দিয়ে শুরু করছি এবং তাদের বলছি, ইরানের অর্থ রাখা ও এই শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মিশরের ‘ব্যাংক মিশরের’ শাখাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগের অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বেসেন্ট বলেন, পরবর্তী ধাপে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকেই পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি সপ্তাহে এ ধরনের আরও অনেক পদক্ষেপ দেখা যাবে। জি-২০-এর অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

এদিকে, খার্গ দ্বীপ থেকে প্রায় ৬৬০ কিলোমিটার (৪১০ মাইল) পূর্বে অবস্থিত লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লারাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তেহরান।

কয়েক সপ্তাহ পর আবার সরাসরি সামরিক হামলা

জুলাইয়ের শেষ দিকের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত সামরিক হামলা বলে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ছোট লারাক দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে অবস্থিত এই দ্বীপ থেকে উপসাগরের প্রবেশমুখের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দেখা যায়। ফলে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে দ্বীপটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির সদস্যদের হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইনবাহী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। এ কারণেই লারাক দ্বীপে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিহত করেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় বেশ কয়েকজন সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তেহরান এ ঘটনায় আরও ‘জবাব ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *