জেনিফারকে যে পুরুষ সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে
দামি ঘড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা ব্যক্তিগত বিমান-জীবনের আরাম-আয়েশের এসব জিনিস আকর্ষণীয় হতে পারে। কিন্তু একজন পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কী আকর্ষণ করে? জনপ্রিয় মার্কিন তারকা জেনিফার লোপেজের উত্তরটি হয়তো অনেকের প্রত্যাশার বাইরে।

নিজের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে খোলামেলা জেনিফার। তার কথায়, মানুষ তাকে দেখে মনে করেন, তিনি বুঝি শুধু দামি জিনিসই পছন্দ করেন। দামি জিনিস তার ভালো লাগে, সেটি তিনি অস্বীকারও করেন না।

নিজের অর্থ রয়েছে, তাই নিজের পছন্দের জিনিস কিনতে তার অন্য কারো ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।
তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার পছন্দের জায়গাটা একেবারেই আলাদা। একজন পুরুষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গুণ হিসেবে তিনি দেখেন তার দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মানসিকতা।
জেনিফারের বক্তব্যের মূল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে একেবারে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কাজে। তার কাছে আকর্ষণীয় সেই মানুষ, যিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানাটি গুছিয়ে রাখবেন।
কিংবা সঙ্গী সারাদিনের ক্লান্তিতে যখন রাতে আর কোনো কাজ করার মতো অবস্থায় নেই, তখন যে মানুষটি নিজে থেকেই রান্নাঘরে গিয়ে বাসন ধুয়ে দেবেন।

শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই আচরণগুলোর গুরুত্ব অনেক। কারণ এখানে বিষয়টি শুধু বাসন ধোয়া কিংবা বিছানা গোছানো নয়। এর মধ্যে রয়েছে-‘তোমার কষ্টটা আমি বুঝতে পারছি, তাই তোমার কাজটা একটু কমিয়ে দিচ্ছি’-এই বার্তা।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা বা রোমান্টিক মুহূর্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্মান এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতাও সম্পর্কের ভিত্তি শক্ত করে।
একজন সঙ্গী যখন নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও অন্যজনের কাজ কিছুটা ভাগ করে নেন, তখন সম্পর্কে তৈরি হয় নিরাপত্তা ও নির্ভরতার অনুভূতি। বিশেষ করে এর জন্য যদি আলাদা করে বলতে না হয়, তাহলে সেই যত্নের মূল্য আরও বেশি।

কারণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতির চেয়ে ছোট ছোট আচরণই বেশি কথা বলে। সঙ্গী অসুস্থ হলে ওষুধ এনে দেওয়া, ব্যস্ত দিনে রান্নায় সাহায্য করা, ক্লান্ত হয়ে ফিরলে এক কাপ চা এগিয়ে দেওয়া কিংবা কোনো কথা না বলেও বুঝে নেওয়া-এসবই ভালোবাসার বাস্তব প্রকাশ।

সমাজে এখনও একজন মানুষের সাফল্য বিচার করার ক্ষেত্রে অর্থ, পেশা, গাড়ি, বাড়ি কিংবা জীবনযাপনের চাকচিক্যকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অনেক সময় মনে করা হয়, দামি উপহার বা বিলাসী জীবনসঙ্গী মানেই ভালো সঙ্গী।

কিন্তু বাস্তব সম্পর্কের সমীকরণ এতটা সহজ নয়। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা জীবনকে আরাম দিতে পারে, কিন্তু একজন মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া।

আর এখানেই জেনিফারের বক্তব্যটি আলাদা মাত্রা পায়। নারীরা অর্থ বা বিলাসিতার প্রতি বেশি আকৃষ্ট-এমন প্রচলিত ধারণার বিপরীতে তিনি সামনে আনলেন সম্পূর্ণ অন্য একটি বিষয়। তার কাছে আকর্ষণের জায়গায় রয়েছে এমন একজন মানুষ, যিনি সংসারকে শুধু ‘নারীর দায়িত্ব’ বলে মনে করেন না।

একসঙ্গে ঘরের কাজ করা, বাজারের ব্যাগ তুলে নেওয়া, সন্তান বা পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনা-এসব খুব সাধারণ কাজ। কিন্তু দিনের পর দিন এই ছোট ছোট সহযোগিতাই একটি সম্পর্কের ভিত শক্ত করতে পারে।

তাই জেনিফার লোপেজের কথার আসল বার্তা হয়তো দামি জিনিসের বিপরীতে সস্তা কিছু বেছে নেওয়া নয়। বরং সম্পর্কে একজন মানুষের মূল্য তার কতটা খরচ করার ক্ষমতা দিয়ে নয়, কতটা দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা আছে, তা দিয়েও বোঝা যায়।

দিনশেষে হয়তো সবচেয়ে দামি উপহারটিও সেই অনুভূতির সমান নয়, যখন ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরার পর কেউ না বলতেই আপনার কাজের কিছুটা নিজের কাঁধে তুলে নেয়।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস
এসএকেওয়াই

