September 11, 2026

মুসলিম উম্মাহর সংকটের কারণ রাসুলের পথ থেকে সরে যাওয়া: শফিকুর রহমান

0
jamaat-amir-shafiqur-rahman-mtvx953d5nhtgun-20260911013120.jpg


আল্লাহর বিধান ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ থেকে সরে যাওয়া মুসলিম উম্মাহর বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর যে অংশের মানুষ যতদিন আল্লাহর দেওয়া বিধান ও রাসুল মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছে তারা উপকৃত ও গৌরবান্বিত হয়েছে। আর যখন সেখান থেকে সরে গেছে তখনই বিপদগামিতা, বিপর্যয়, পরাজয় ও লাঞ্ছনা নেমে এসেছে।’

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬’এর পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে চারটি গোত্রের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে তরুণ মুহাম্মদ (সা.) একটি ইনসাফপূর্ণ সমাধান দেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক জীবনেও তিনি দক্ষতা, যোগ্যতা ও আমানতদারির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, জীবনে কখনো কেউ তার ওপর মিথ্যা বলা, আমানতের খেয়ানত কিংবা ওয়াদা ভঙ্গের অভিযোগ করতে পারেনি। এ কারণেই মানুষ তাকে আল-আমিন ও আস-সাদিক উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জীবন মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ আদর্শ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, একজন ব্যবসায়ী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, সমন্বয়ক কিংবা বিচারকের জীবনের প্রশ্নে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আমি কাকে অনুসরণ করব? নিঃসন্দেহে উত্তর হবে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)।

তিনি আরও বলেন, রাসুলের জীবনের প্রকাশ্য ও ব্যক্তিগত উভয় দিকই উম্মতের জন্য শিক্ষা ও আদর্শ হিসেবে সংরক্ষিত হয়েছে। ব্যক্তিজীবন থেকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন কোনো ক্ষেত্রই তার আদর্শের বাইরে নয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয়, হেদায়েতের আলো পাওয়ার জন্যই তাদের সিরাতচর্চা করা উচিত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হেদায়েত মানে সঠিক পথের সন্ধান পাওয়া। মানুষ অনেক সময় রাগ করে অন্যকে বলে আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত করুক। অথচ হেদায়েত চাওয়া সবচেয়ে বড় দোয়ার একটি।

তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সংকট হলো মেধা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করা। আল্লাহর দেওয়া মেধাকে মানবতার কল্যাণে কাজে না লাগিয়ে অনেকে বৈধ-অবৈধ পথে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন।

তিনি প্রতিযোগীদের উদ্দেশে বলেন, আজকের পুরস্কার প্রদান যেন এখানেই শেষ না হয় বরং এখান থেকেই তাদের আলোকিত জীবন গঠনের যাত্রা শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা যেন মা-বাবার চোখ জুড়ানো সন্তান এবং জাতির জন্য গর্বের সন্তান হয়। তারা ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার কাজে ভূমিকা রাখবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।  

ন্যায় ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আল্লাহর বিধান, কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ অনুসরণ করবে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।

এমইউ/এমএমকে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *