বিটিসিএল কর্মকর্তা হাম্মাদের যুক্তরাজ্যের সম্পদ জব্দের নির্দেশ
বিটিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক হাম্মাদ মুজিবের ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১ দশমিক ২৫ ইউরোর লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যে তার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান আদালতে সম্পদ জব্দের আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. তানজির আহমেদ জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, হাম্মাদ মুজিবের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাইপ্রাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো পারস্পরিক আইনি সহায়তা অনুরোধের (এমএলএআর) মাধ্যমে তার ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত হাম্মাদ মুজিবের ব্যাংক হিসাবে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১ দশমিক ২৫ ইউরো জমা হয়েছে।
এর মধ্যে ২ লাখ ৩ হাজার ৯২৫ দশমিক ৮ ইউরো যুক্তরাজ্যে থাকা তার বোন রাহি রহমানের কাছে সম্পত্তি কেনার জন্য ‘উপহার’ হিসেবে পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া তার ছেলে রাগিব মুহাম্মদ আখিয়ারের পড়াশোনার খরচ বাবদ যুক্তরাজ্যের একটি কলেজে ২০ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৯৭ ইউরো পাঠানো হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক বলছে, তদন্তে যুক্তরাজ্যে হাম্মাদ মুজিব ও তার সহযোগীদের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ স্থানান্তর বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, সম্পদগুলো দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে রাষ্ট্রের অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে যুক্তরাজ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে অবরুদ্ধ ও জব্দ করার প্রয়োজন রয়েছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমএলএআরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আদেশ ও তথ্য পাঠানোর অনুমতি চায় দুদক। আবেদনের শুনানি শেষে আদালত যুক্তরাজ্যে থাকা হাম্মাদ মুজিব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দের আদেশ দেন।
এমডিএএ/এমকেআর
