তিন বছরের শিশুর মতো দেখতে ১৭ বছরের ইয়াসিন, দুঃখই যেন তার জীবনসঙ্গী
বয়স ১৭ বছর। অথচ দেখলে মনে হবে তিন বছরের কোনো শিশু। উচ্চতা মাত্র ৩২ ইঞ্চি। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা ইয়াসিনের জীবন কাটছে চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার মধ্যে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসিন। মাত্র ৯ বছর বয়সে মাকে হারিয়েছে সে। এখন শ্রবণ প্রতিবন্ধী বাবাই তার একমাত্র ভরসা।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বয়স বাড়লেও তার শারীরিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়নি। ছোট্ট একটি ঝুপড়ি ঘরেই বাবা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তার বসবাস। বর্ষা এলেই বাড়ে তাদের দুর্ভোগ। ঘরের চালের বিভিন্ন জায়গা ফুটো থাকায় বৃষ্টির পানি পড়ে ঘরের ভেতর। মেঝেতে জমে যায় পানি। নিরাপদ ও বসবাসের উপযোগী ঘর না থাকায় এমন পরিস্থিতিতেই রাত কাটাতে হয় তাদের।

এতো দুঃখের মাঝে প্রায় আট বছর আগে মাত্র ৯ বছর বয়সে ইয়াসিনের জীবনে নেমে আসে আরও বড় শূন্যতা। মারা যান তার মা। এরপর আর বিয়ে করেননি তার শ্রবণশক্তি হারানো বাবা আতিকুল ইসলাম। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে একাই সংসারের হাল ধরেছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছাগল কিনে বিক্রি করেন। যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে সংসার। তাই অভাবের কারণে ইয়াসিনের চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় সুযোগও হয়ে ওঠেনি।
বাবা যখন জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকেন, তখন ইয়াসিনই ছোট ভাইয়ের দেখাশোনা করে। নিজের সাধ্য অনুযায়ী রান্নাবান্নাও করে সে। তার ছোট ভাইয়ের বয়স মাত্র ১০ বছর।
ইয়াসিনের বাবা আতিকুল ইসলাম বলেন, আমার নিজেরও অনেক সমস্যা। তারপরও সন্তানদের নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই। ইয়াসিনের শরীরের অবস্থা ভালো না। ঘরটাও ভালো না। বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। আমাদের একটু সহযোগিতা হলে সন্তানদের নিয়ে ভালোভাবে থাকতে পারতাম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক আলী বলেন, ইয়াসিনের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে খুবই অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ইয়াসিন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী, তার বাবাও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তাদের থাকার ঘরটিও খুব নাজুক। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। পরিবারের পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে পরিবারটির অনেক উপকার হবে।

তিনি আরও বলেন, ওই পরিবারে এর আগে একটা প্রতিবন্ধী কার্ড দেওয়া ছিল। তবে সিম সংক্রান্ত জটিলতায় তা আপাতত বন্ধ। আমি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে সেটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করছি।
জীবননগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির উদ্দিন মোড়ল বলেন, ইয়াসিনের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। তার পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে যাচাই করা হবে। উপযুক্ত পুনর্বাসন বা অন্যান্য সরকারি সহায়তার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুতই নেওয়া হবে।
হুসাইন মালিক/এফএ
