September 6, 2026

ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে বাসায় গিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ২

0
img-20260405-122517-20260904024058-2-mtm2szj6fl6e52h-20260904041136.jpg


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎকারী একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতাররা হলেন- মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার (২১) ও মো. আব্দুল্লাহ মিয়া (৬৬)।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান। 

মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি অভিযানকারী দল গত ৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় চক্রটি ফেসবুক পেজে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে দুরারোগ্য রোগসহ নানা সমস্যার চিকিৎসার কথা বলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তাকে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হতো।

পরে কথিত কবিরাজরা চিকিৎসার কথা বলে ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়ে বিভিন্ন ঝাড়-ফুঁক ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করকো। একপর্যায়ে চিকিৎসার অংশ হিসেবে বাসায় থাকা সোনার গহনা একসঙ্গে করতে বলা হতো। এরপর স্বর্ণালংকারগুলো রুমালে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা এবং সেই পানি পুরো ফ্ল্যাটে ছিটানোর মতো নানা কৌশলে চিকিৎসা চালানো হতো। এ সময় ভুক্তভোগীর দৃষ্টি অন্যদিকে থাকার সুযোগে কৌশলে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেতো চক্রের সদস্যরা।

সিআইডির এই বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর একজন ভুক্তভোগী ডিএমপির শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। এরপর সিআইডি বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। একই সঙ্গে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার সন্দেহভাজন আসামি মো. আব্দুল্লাহ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, সিআইডি প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চক্রটির ব্যবহৃত ফেসবুক পেজটি শনাক্ত করে। তদন্তে ওই পেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেজ ও ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায় এবং তাদেরও তদন্তের আওতায় আনা হয় বলে জানান তিনি।

গ্রেফতারের সময় জিয়াসমিন আক্তারের হেফাজত থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে ১টি সোনার আংটি এবং লকেটসহ ১টি সোনার চেইন জব্দ করা হয়। জব্দকৃত স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ২১.৮৩ গ্রাম, যার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মো. ছুফি উল্লাহ আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা প্রতারণার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং আত্মসাৎকৃত অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কেআর/ইএ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *